Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৩rd অক্টোবর ২০১৯

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্প

প্রকল্পের নাম

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্প

প্রকল্পের অবস্থান

পতেঙ্গা ও আনোয়ারা, চট্রগ্রাম।

ম্যাপ

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্প

প্রাক্কলিত ব্যয় (মিলিয়ন)

  • মোটঃ                                  ৯৮৮০৪০.৩৮ টাকা
  • বাংলাদেশ সরকারঃ                ৩৯৬৭২১.১৪ টাকা
  • প্রকল্প সহয়তাঃ                       ৫৯১৩১৯.২৪ টাকা

নির্মাণের কারণ

  • চট্রগ্রাম শহরে নিরবচ্ছিন্ন ও যুগোপোযুগী সড়ক যোগাযোগ ব্যাবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান সড়ক যোগাযোগ ব্যাবস্থার আধুনিকায়ন।
  • এশিয়ান হাইওয়ের সাথে সংযোগ স্থাপন।
  • কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীর  ঘেঁষে গড়ে ওঠা শহরের সাথে ডাউন টাউনকে যুক্ত করা এবং উন্নয়ন কাজ ত্বরান্বিতকরণ।
  • চট্রগ্রাম পোর্টের বিদ্যমান সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিকরণ এবং প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্র বন্দরের নির্মাণ কাজ ত্বরান্বিতকরণ।
  •  ঢাকা-চট্রগ্রাম-কক্সবাজার এর মধ্যে নতুন একটি সড়ক যোগাযোগ ব্যাবস্থা গড়ে তোলা।
  • কর্ণফুলী টানেল নির্মিত হলে চীনের সাংহাই শহরের ন্যয় চট্রগ্রাম শহরকে “One City Two Town” মডেল এ গড়ে তোলা।

অর্থনৈতিক প্রভাব

কর্ণফুলী টানেল নির্মাণের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং এশিয়ান হাইওয়ের সাথে সংযোগ স্থাপিত হবে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে। কর্ণফুলী নদীর পূর্বপ্রান্তের প্রস্তাবিত শিল্প এলাকার উন্নয়ন ত্বারান্বিত হবে এবং পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত চট্টগ্রাম শহর, চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দরের সাথে উন্নত ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হবে। ফলে ভ্রমণ সময় ও খরচ হ্রাস পাবে এবং পূর্বপ্রান্তের শিল্পকারখানার কাঁচামাল ও প্রস্তুতকৃত মালামাল চট্টগ্রাম বন্দর, বিমানবন্দর ও দেশের উত্তরপ শ্চিমাঞ্চলে পরিবহন প্রক্রিয়া সহজ হবে। কর্ণফুলী নদীর পূর্ব প্রান্তের সাথে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের ফলে পূর্বপ্রান্তে পর্যটনশিল্প বিকশিত হবে।

 

সার্বিকভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজিকরণ, আধুনিকায়ন,  শিল্পকারখানার বিকাশ সাধন এবং পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের ফলে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্প নির্মিত হলে বেকারত্ব দূরীকরণসহ দেশের অর্থনৈতিকউন্নয়নে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

জিডিপি-তে ইতিবাচক প্রভাব

কর্ণফুলী টানেল নির্মিত হলে এলাকার আশে পাশে  শিল্পোন্নয়ন , পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে । ফলে দারিদ্র দূরীকরণসহ দেশের ব্যাপক আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধিত হবে । DPP মোতাবেক এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে  Financial এবং Economic IRR  এর পরিমান দাঁড়াবে যথাক্রমে ৬.১৯% এবং ১২.৪৯%। তাছাড়া, Financial  ও Economic “Benefit Cost Ratio (BCR)” এর পরিমান দাড়াবে যথাক্রমে ১.০৫ এবং ১.৫০ । ফলে কর্ণফুলী টানেল নির্মিত হলে জিডিপি তে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে ।

প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

  • কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে ৪ লেন বিশিষ্ট সড়ক টানেল নির্মিত হবে।
  • মূল টানেল ২টি টিউব সম্বলিত ও ৩.৪ কি.মি: দীর্ঘ এবং টানেলের পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে ৫.৩৫ কি:মি: এপ্রোচ রোড এবং ৭২৭ মিটার ওভার ব্রিজ (Viaduct) সম্পন্ন এই টানেলটি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলাকে শহরাঞ্চলের সাথে সংযুক্ত করবে।
  • প্রকল্পটির প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৮৮০.৪০ কোটি টাকা। যার মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থ সহয়তা ৩৯৬৭.২১ কোটি টাকা এবং চীন সরকারের অর্থ সহয়তা ৫৯১৩.১৯ কোটি টাকা।

 

টানেল এল্যাইনমেন্ট:

টানেলের প্রবেশ পথ       : এয়ারপোর্ট থেকে কর্ণফুলী নদীর ২ কিলোমিটার ভাটির দিকে নেভি কলেজের নিকট

টানেলের বহির্গমন পথ    : আনোয়ারা প্রান্তে সারকারখানার নিকট

 

টানেল টাইপঃ   Dual Two Lane Tunnel

নির্মাণ কৌশলঃ     Shield Driven Method  

বাস্তবায়ন অগ্রগতি

  • টানেল নির্মাণের লক্ষ্যে ২২/১২/২০১৪ তারিখে CCCC এর সাথে MoU স্বাক্ষর হয়। ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০১৫ তারিখে চীন সরকারের মনোনীত প্রতিষ্ঠান CCCC কমার্শিয়াল প্রস্তাব দাখিল করে।
  • CCCC এর সাথে ৭০৫.৮ মিলিয়ন ডলারের কমার্শিয়াল চুক্তির বিষয়টি ২৪ জুন, ২০১৫ সরকারী অর্থনৈতিক সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটিতে অনুমোদিত হয়েছে।
  • ৩০ জুন, ২০১৫ এ  CCCC এর সাথে কমার্শিয়াল চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
  • প্রকল্পের অধিগ্রহণ ও রিকুইজিশনযোগ্য মোট ৩৮৩.৪৯২১ একর ভূমির মধ্যে অদ্যাবধি ৩৪০.০৪৭১ একর ভূমি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট ৪৩.৪৪৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ/ হস্তান্তর কার্যক্রম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়/ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে।
  • বিগত ২৫ সেপ্টেম্বর ,২০১৯ তারিখ আনোয়ারা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আনোয়ারা প্রান্তের ২৭ জন (সাতাশ) ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের পুনর্বাসনের অতিরিক্ত মঞ্জুরি বাবদ উৎস কর ১% কর্তন করে ২৭টি ক্রসড চেকের মাধ্যমে সর্বমোট ৮,২১,০১,৩৯৭.৩০ টাকা (আট কোটি একুশ লাখ এক হাজার তিনশত সাতানব্বই টাকা ত্রিশ পয়সা) বিতরণ করা হয়েছে। উল্লিখিত অতিরিক্ত মঞ্জুরি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রকল্প-পরিচালকসহ প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ, আনোয়ারা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন সমূহের ইউ/পি চেয়ারম্যানগণসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন ।
  • পতেঙ্গা প্রান্তে Flood gate এর কাজ চলমান রয়েছে এবং G1 ও G2 রোড এর কাজ চলমান রয়েছে।
  • গত ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ এ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী Tunnel Boring কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। ইতিমধ্যে প্রতিটি ২ মিটার দৈর্ঘ্যের ৩০৮টি TunnelRing বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
  • পূর্ব প্রান্তে ওয়ার্কিং শাফট এবং Cut & Cover এর কাজ চলমান। ইতোমধ্যেডায়াফ্রাম ওয়াল, Rotary Jet Grouting, Cement-mixed-pile, Cast-in-Situ Bored Pile এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া এপ্রোচ রোড এর কাজ চলমান রয়েছে।
  • চীনের জিয়াংসু প্রদেশের জেংজিয়ান শহরে টানেল সেগমেন্ট কাস্টিং প্ল্যান্টে সেগমেন্ট নির্মাণের কাজ চলমান আছে এবং সেপ্টেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত ১৯,৬১৬ টি সেগমেন্টের মধ্যে ১০,৮৮১টি সেগমেন্ট নির্মান সম্পন্ন হয়েছে(৫৫%)। তারমধ্যে,অদ্যাবধি ৫,৬০৮টি সেগমেন্ট চট্টগ্রাম সাইটে পৌঁছেছে।
  • আনোয়ারা প্রান্তে ৭২৭ মিটার Viaduct নির্মাণ কাজের ১২১ টি Cast-in-Situ Bored Pile –এর ৯৪টির (৭৭.৬৯%) নির্মাণ কাজ, ১০৩ টি কংক্রিট পিয়ার এর মধ্যে ৯৪ টির (৯১%)কাজ এবং ৪৬টি পিয়ারক্যাপ এর মধ্যে ৪২টির (৯১%) কাজসম্পন্ন হয়েছে।
  • সেপ্টেম্বর, ২০১৯ পর্যন্ত মোট ৩৮২৫৭২.৬৪ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে ( যার মধ্যে প্রকল্প সাহায্য ২৫০২৬৪.৭০ লক্ষ টাকা এবং জিওবি ১৩২৩০৭.৯ লক্ষ টাকা )। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৩৮.৭২% এবং ভৌত অগ্রগতি ৪৮% ।
  • ৫/১২/২০১৭ তারিখ হতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে।
ছবি

ভিডিও

ভিডিও


Share with :

Facebook Facebook