মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৬ অক্টোবর ২০১৮

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্প

প্রকল্পের নাম

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্প

প্রকল্পের অবস্থান

পতেঙ্গা ও আনোয়ারা, চট্রগ্রাম।

ম্যাপ

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্প

প্রাক্কলিত ব্যয় (মিলিয়ন)

মোটঃ ৮৪৪৬৬৩.৭৮ টাকা
বাংলাদেশ সরকারঃ ২৮০০২৩.৭৮ টাকা
প্রকল্পসহয়তাঃ ৫৬৪৬৪০.০০ টাকা

নির্মাণের কারণ

  • চট্রগ্রাম শহরে নিরবচ্ছিন্ন ও যুগোপোযুগী সড়ক যোগাযোগ ব্যাবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান সড়ক যোগাযোগ ব্যাবস্থার আধুনিকায়ন।
  • এশিয়ান হাইওয়ের সাথে সংযোগ স্থাপন।
  • কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীর ঘেঁষেগড়ে ওঠা শহরের সাথে ডাউন টাউনকে যুক্ত করা এবং উন্নয়ন কাজ ত্বরান্বিতকরণ।
  • চট্রগ্রাম পোর্টের বিদ্যমান সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিকরণ এবং প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্র বন্দরের নির্মাণ কাজ ত্বরান্বিতকরণ।
  •  ঢাকা-চট্রগ্রাম-কক্সবাজার এর মধ্যে নতুন একটি সড়ক যোগাযোগ ব্যাবস্থা গড়ে তোলা।
  • কর্ণফুলী টানেল নির্মিত হলে চীনের সাংহাই শহরের ন্যয় চট্রগ্রাম শহরকে“One City Two Town”মডেল এ গড়ে তোলা।

অর্থনৈতিক প্রভাব

কর্ণফুলী টানেল নির্মাণের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং এশিয়ান হাইওয়ের সাথে সংযোগ স্থাপিত হবে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে। কর্ণফুলী নদীর পূর্বপ্রান্তের প্রস্তাবিত শিল্প এলাকার উন্নয়ন ত্বারান্বিত হবে এবং পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত চট্টগ্রাম শহর, চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দরের সাথে উন্নত ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হবে। ফলে ভ্রমণ সময় ও খরচ হ্রাস পাবে এবং পূর্বপ্রান্তের শিল্পকারখানার কাঁচামাল ও প্রস্তুতকৃত মালামাল চট্টগ্রাম বন্দর, বিমানবন্দর ও দেশের উত্তরপ শ্চিমাঞ্চলে পরিবহন প্রক্রিয়া সহজ হবে। কর্ণফুলী নদীর পূর্ব প্রান্তের সাথে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের ফলে পূর্বপ্রান্তে পর্যটনশিল্প বিকশিত হবে।

 

সার্বিকভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজিকরণ, আধুনিকায়ন,  শিল্পকারখানার বিকাশ সাধন এবং পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের ফলে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্প নির্মিত হলে বেকারত্ব দূরীকরণসহ দেশের অর্থনৈতিকউন্নয়নে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

জিডিপি-তে ইতিবাচক প্রভাব

কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প নির্মিত হলে প্রকল্প এলাকার আশেপাশে শিল্পোন্নয়ন , পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থারকারণে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। ফলে দারিদ্র দূরীকরণসহ দেশের ব্যাপক আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধিত হবে। DPPমোতাবেক এ প্রকল্প বাস্তবায়িক হলে Financial IRRএবংEconomic IRRএরপরিমান৬.১৯% এবং ১২.৪৯%। তাছাড়া, Financial  Economic Benefit Cost Ratio (BCR) এর পরিমান দাড়াবে যথাক্রমে ১.০৫ এবং ১.৫০। ফলে কর্ণফুলী টানেল নির্মিত হলে জিডিপিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

  • কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে ৪ লেন বিশিষ্ট সড়ক টানেল নির্মিত হবে।
  • ২টি টিউব সম্বলিত ৩.৪ কি.মি: দীর্ঘ মূল টানেল এবং টানেলের পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে ৫.৩৫ কি:মি: এপ্রোচ রোড এবং ৭২৭ মিটার ওভার ব্রিজ (Viaduct)সম্পন্ন এই টানেলটি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলাকে শহরাঞ্চলের সাথে সংযুক্ত করবে।
  • প্রকল্পটির প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৫৫.৮৩ মিলিয়নমার্কিন ডলার (৮৪৪৬.৬৪ কোটি টাকা)। যার মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থ সহয়তা ৩৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারএবং চীন সরকারের অর্থ সহয়তা ৭০৫.৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

 

টানেল এল্যাইনমেন্ট:

টানেলের প্রবেশ পথ:এয়ারপোর্ট থেকে কর্ণফুলী নদীর ২ কিলোমিটার ভাটির দিকেনেভি কলেজের নিকট

টানেলের বহির্গমন পথ :আনোয়ারা প্রান্তে সারকারখানার নিকট

প্রকল্পের দৈর্ঘ্যঃ মোট দৈর্ঘ্যঃ ৯২৬৫.৯৭১ মিটার

টানেল টাইপঃ   Dual Two Lane Tunnel

নির্মাণ কৌশলঃ Shield Driven Method

বাস্তবায়ন অগ্রগতি

(লক্ষ টাকায়)

প্রকল্পের মোট ব্যয়

২০১৮-১৯ অর্থবছরে এডিপি বরাদ্দ

সেপ্টেম্বর/১৮ পর্যন্ত অর্থ ছাড়

সেপ্টেম্বর/১৮ পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি

মোট ব্যয়

(বরাদ্দের (%) অংশ)

জিওবি ব্যয়

(বরাদ্দের (%) অংশ)

প্রকল্প সাহায্য

৮৪৪৬৬৩.০০

মোট-১৯০৫০০

জিওবি-২৯৮৫৭

প্রঃ সাঃ-১৬০৬৪৩

১৮৯০.০০

৫৯৯০.৫৫

(৩.১৪%)

৫৯৯০.৫৫

(২০.০৬%)

-

 

  • প্রকল্পের পতেঙ্গা ও আনোয়ারা প্রান্তে ১৫৭.৫৮২৩ একর ভুমি অধিগ্রহণ ও রিকূইজিশন সম্পন্ন হয়েছে এবং ২২৫.৬৬৪৩ একর ভুমি অধিগ্রহণ ও রিকূইজিশনের প্রক্রিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়/ভুমি মন্ত্রণালয়ে চলমান আছে। প্রকল্পের কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২১১.৭২৮১ একর ভূমি হস্তান্তর করা হয়েছে।
  • প্রকল্পের পুনর্বাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য এনজিও নিয়োগ করা হয়েছে এবং এনজিও কাজ শুরু করেছে।
  • প্রকল্প সাইটে পানি সংযোগ প্রদানের জন্য আরডিএ,  বগুড়া কর্তৃক ০৪ টি গভীর নলকূপ স্থাপন কাজের মধ্যে পতেঙ্গা প্রান্তে দুইটি এবং আনোয়ারা প্রান্তে একটি নলকূপ স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে এবং আনোয়ারা প্রান্তে অপর নলকূপটি স্থাপনের কাজ চলমান আছে।
  • পতেঙ্গা ও আনোয়ারা উভয় প্রান্তে ২ মেঃওঃ এবং পতেঙ্গা প্রান্তে ১৫ মেঃওঃ স্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া গেছে। আনোয়ারা প্রান্তে স্থায়ী বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণের কাজসহ প্রয়োজনীয় সাব-স্টেশন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
  • টানেল বোরিং মেশিন launching এর জন্য ওয়ার্কিং শাফট এবং প্রয়োজনীয় Cut & Cover অংশের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। Working Shaft (South Side) এর Cross Beam  অপসারণ করা হয়েছে; পতেঙ্গা অংশে G1 রোড এর কাজ চলমান রয়েছে।
  • আনোয়ারা অংশে চলমান সাইট ক্যাম্প, আবাসন ও Batching Plant, Water treatment plant সহ অন্যান্য Facilities নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
  • পুর্ব প্রান্তে ওয়ার্কিং শাফট এবং Cut & Cover নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ওয়ার্কিং শাফট এবং Cut & Cover  এর  গাইড ওয়াল এবং ৯৮ মিটার ডায়াফ্রাম ওয়াল এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
  • চীনের জিয়াংসু প্রদেশের জেংজিয়ান শহরে টানেল সেগমেন্ট কাস্টিং প্ল্যান্টে সেগমেন্ট নির্মাণের কাজ চলমান আছে এবং সেপ্টেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত ৪২৫০ টি সেগমেন্ট নির্মান সম্পন্ন হয়েছে। অদ্যবধি ২০৬৮ টি সেগমেন্ট চট্টগ্রাম সাইটে পৌঁছেছে।
  • Tunnel Boring Machine (TBM) গত ২৭ জুলাই ২০১৮ তারিখে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে launching এর কাজ চলমান আছে।
  • প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধনের জন্য ০৫/০৯/২০১৮ তারিখে পরিকল্পনা কমিশনে পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পিইসি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক পুনর্গঠিত আরডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে।      

ভিডিও


Share with :

Facebook Facebook